arjun

arjun

Monday, 7 September 2015

অ'


ফিল্মও তো তৈরি হয় লোকের টাকা নিয়েই। সেটা ক্রাউড ফাণ্ড করেই হোক কিম্বা কোনও হনু প্রযোজকের টাকাতেই হোক। তাহলে বই কেন নয়? বইয়ের কেন প্রযোজক থাকতে পারে না? আমাদের বাঙলায় অধিকাংশ লেখক/কবিকেই বই প্রকাশ করতে হয় নিজের টাকায়। এখানে বিকল্প অর্থনীতির ছোট-বড় প্রতিষ্ঠানগুলি গড়ে ওঠেনি। একটা বই, (ধরে নিচ্ছি চার ফর্মার) মোটামুটি খরচ যদি হয় ১২,০০০ টাকা। মাত্র ৫০ জন মানুষ যদি ২৫০ টাকা করে দেন, তাহলে এই টাকাটা লেখককে ধার-দেনা করে বা নিজের ঘাম ঝরানো শ্রমে উপার্জন করে দিতে হয় না। বইটা লিখবেন তিনি। টাকাটা দেবেন তিনি। বইগুলো ডিস্ট্রিবিউশন এবং বিক্রি বা বিলোনোর ব্যবস্থাও করবেন তিনি। বইগুলো ডাঁই হয়ে তাঁরই ঘরে জমতে জমতে স্তূপ হবে। একেমন ধারা? সিনেমার ক্রাউড ফাণ্ডের ক্ষেত্রে আমরা যখন দেখছি দর্শকই হয়ে উঠছেন ফিল্মটির প্রযোজক, বইয়ের ক্ষেত্রেও এইভাবে তো পাঠক হয়ে উঠতে পারেন প্রযোজক-প্রকাশক। পোস্টমডার্নিটি অনেকগুলো ছোট ছোট টুকরো এবং স্বতন্ত্র অস্তিত্বের কথা বলে। যুগবৈশিষ্টে ক্রাউড ফাণ্ড পোস্টমডার্ন কালেরই এক অন্যতম চিহ্ন।
আগামী বছর (২০১৬) লিটল ম্যাগাজিন মেলায় প্রকাশিতব্য দুটি বই সারং থেকে জৈতকল্যাণ যত দূরে’ – একটি বাঙলা লেখা সঙ্কলন এবং খাঁচার ভেতর খাঁচা’ – মখমলবাফের নাটকের অনুবাদ। সারং থেকে জৈতকল্যাণএকটি মিশ্রলিপি (মিক্সড টেক্সট)-র বই। কবিতা-গদ্য-চিঠি-আঁকিবুঁকি-সিনেমা-সঙ্গীত-নাটক-চিত্রনাট্য-ডায়েরি-অসুখযাপন-সমাজ-বোধ-জীবন-স্বপ্ন-যৌনতা সব নিয়ে একটি বই। বই অর্থাৎ কিতাব, পুস্তক বলতে আমি শুধু দুমলাটের একটি বইকে বুঝি না। সিনেমাকেও বুঝি। আমার বই আমার কাছে আমার সিনেমাই। সেখানে প্রুফ-সংশোধক থেকে ব্লার্ব লেখক, বাঁধাই কর্মী প্রত্যেকে মিলে বইটিকে তৈরি করেন। সিনেমার মতো, এ-ও এক কম্পোজিট আর্ট। আর খাঁচার ভেতর খাঁচা১৯৮১ সালে লেখা মহসিন মখমলবাফ-এর একটি রাজনৈতিকনাটকের ভাবানুবাদ। এই মুহূর্তে বই দুটো করে ফেলার মতো টাকা আমার কাছে নেই। তার চেয়েও অন্য কথা, ভিন্ন পথে হেঁটে এই দুটি বইকে আমি দেখতে চাইছি। চাইছি, আমার সৃজনে আরও মানুষের প্রত্যক্ষ শ্বাসাঘাত ও ঘামবিন্দু এসে লাগুক। মিশুক। চাইছি, আমার হাসির দাগ লাগে যেন সবার আকাশে। এই পেজ-এর মাধ্যমে, যাঁরা আমার লেখালিখিকে কিছুটা হলেও কাছ থেকে জানেন, এবং যাঁরা চেনেন আমার ব্যক্তি আমিটিকে, সেই সমস্ত বন্ধু, শত্রু, সমস্বার্থাণ্বেষু এবং ঋদ্ধজনেষুদের কাছে আমি ক্রাউড ফাণ্ড’-এর অ্যাপীল রাখছি। যাঁরা বই দুটিকে প্রকাশের জন্য আর্থিক সহায়তা রাখবেন, তাঁদের প্রত্যেকের নাম আমি বইটির প্রযোজকহিসেবে রাখবো। বড়ো প্রকাশক, যাঁরা নিজের টাকায় বই করেন এবং কিছু রয়্যালটিও দিয়ে থাকেন এই পোড়া বাঙলায়, তাঁদের কাছে না যাওয়ার একটিই কারণ, আমি আমার বই তৈরিতে প্রতিটি পদক্ষেপে নাক গলাই। কেননা সিনেমাটা আমার। এবং আমি নিজে অনেকগুলো ছোটোর অস্তিত্বে বিশ্বাস রাখি। একটি বৃহদাকার মাছ নয়, অনেকগুলো ছোট ছোট বিবিধ মাছ মিলে এক একটি ঝাঁক তৈরিতে বিশ্বাসী। আপনার পক্ষে ন্যূনতম যেটা সম্ভব সেটুকু দিয়েই পাশে থাকা যায়। যাঁরা থাকতে পারবেন পাশে, আমায় ইনবক্স করতে পারেন। মেইলও করতে পারেন, arjunbanerjee1985@gmail.com-এ।


Arjun Bandyopadhyay

No comments:

Post a Comment